Responsive image

দরপতনে আতঙ্কিত নয়; বিনিয়োগ ধরে রাখুন

দেশের পুঁজিবাজারের নাজুক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত বছরের ১৯ মার্চ  ফ্লোর প্রাইস বা শেয়ারের সর্বনিম্ন দর সীমা ঠিক করে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরপর টানা অস্বাভাবিক দরপতন থেকে কিছুটা ইতিবাচক ধারায় চলতে শুরু করলেও এখনো কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি পুঁজিবাজার। ফ্লোর প্রাইসের কারণে  দীর্ঘসময় ধরে একই দরে আটকে ছিল তালিকাভূক্ত শতাধিক কোম্পানি। এসব কোম্পানির শেয়ারদর মাঝে মাঝে কিছুটা বাড়লেও পরক্ষনেই আবারও নেমে আসতো ফ্লোর প্রাইসে। এরফলে নির্ধারিত দরের নিচে লেনদেন হওয়ার সুযোগ ছিল না কোম্পানিগুলোর।

এমতাবস্থায় গত ৭ এপ্রিল ৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করে নেয়  নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।  আর এর পরদিনই পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন হয়। বর্তমান বাস্তবতায় এখনই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার বিষয়টি সঠিক সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মনে করছেন অনেকে। তারা মনে করেন, বাজারের একটা স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছানোর পর ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নিলে ভালো হতো।

আবার এই দরপতনকে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হিসেবেই দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।  তাদের মতে, পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত তৈরি করে ফ্লোর প্রাইস। যে কোম্পানি লেনদেন হওয়ার কথা, সেটি লেনদেন হচ্ছে না। আর হলেও সেই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে না। এসব কোম্পানির শেয়ার যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে তারা তা বিক্রি করতে পারছেন না।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর হয় বাড়বে, না হয় কমবে। বিনিয়োগকারীরা স্বাধীনভাবে তাদের শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। লকডাউনের মধ্যে টানা তিন দিন সূচকের উত্থান হয়েছে। এক-দু দিন কমবে। এটাই স্বাভাবিক। সূচক পতন হয়েছে বলে যেসব বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে আছেন তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কম দামে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি না করে বরং ধৈর্য সহকারে অপেক্ষা করা উচিত। আর যাদের হাতে টাকা রয়েছে অপেক্ষাকৃত কম দামে পছন্দের শেয়ার কিনে তাদের আরও বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তারা।

(বিনিয়োগবার্তা/১০ এপ্রিল ২০২১)

 

Short URL: http://biniyogbarta.com/?p=141755

সর্বশেষ খবর