Responsive image

রেকর্ড গড়েই পতনের তালিকায় সোনালী লাইফ; তদন্ত করবে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:  দেশের পুঁজিবাজারে সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া জীবন বীমা খাতের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বাভাবিক আদেশ দেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একইসঙ্গে ডিভিডেন্ড ঘোষণার পরদিনই শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়া আবার একদিন পরেই শেয়ারটির দরপতনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।

গত ১ জুলাই থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়া সোনালী লাইফের পরিচালনা পর্ষদ ২০২০ সালের সমাপ্ত বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ  ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসের জন্য দুই শতাংশ ক্যাশ অন্তবর্তীকালিন ডিভিডেন্ড দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

ডিভিডেন্ড ঘোষণার কারণে সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়া বা কমার ক্ষেত্রে কোনো সার্কিট ব্রেকার ছিল না। এই সুযোগে লেনদেন শুরুর আগেই এক হাজার ৫০ টাকা করে কোম্পানিটির শেয়ার কেনার প্রস্তাব আসে। বিপরীতে বিক্রির প্রস্তাব আসে ১০ পয়সা করে। অবশ্য ক্রয়-বিক্রয়ের এই অস্বাভাবিক দর পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

এদিকে অস্বাভাবিক দামে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব আসার পাশাপাশি সোনালী লাইফের শেয়ার দর বাড়ার ক্ষেত্রেও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ১৬ টাকা থেকে একদিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৭০ টাকা ৫০ পয়সা বা ৪৪০ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সায় ঠেকে। পুঁজিবাজারের ইতিহাসে কোনো কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর একদিনে এমন দর বাড়ার কোনো রেকর্ড নেই।

এদিকে সোনালী লাইফ নিয়ে বিএসইসি তদন্ত করার উদ্যোগ নেয়ায় রেকর্ড দর বাড়ার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার কোম্পানিটি দরপতনের তালিকায় নেমে আসে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫ টাকা ৫০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৮১ টাকায় নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের গতি। আগের দিন কোম্পানিটির ৫১ কোটি ৫২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হলেও মঙ্গলবার তা কমে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

আর তাই শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই অস্বাভাবিক দর প্রস্তাবের বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ বিষয়ে বলেন, সোনালী লাইফের শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয়ের অস্বাভাবিক দর প্রস্তাবের বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ বিষয়ে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে এক কোটি ৯০ লাখ সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ টাকা। আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা এই অর্থ কোম্পানিটি সরকারি ট্রেজারি বন্ড, ফিক্সড ডিপোজিট, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

(এসএএম/১৩ জুলাই ২০২১)

Short URL: https://biniyogbarta.com/?p=149966

সর্বশেষ খবর