undefined

খেলাপি ঋণে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ

ড: মিহির কুমার রায়ঃ নব্বই দশকের প্রথম দিকে নবগঠিত বি,এন,পি সরকারের অর্থমন্ত্রী ১৯৯১-৯২ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় বলেছিলেন  বিপুল পরিমান ঋন অনাদায়যোগ্য হয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সংকটে পড়েছে, ব্যাংক ঋনের সুদের হার বাড়াতে হয়েছে, বিনিয়োগে নূতন উদ্যোক্তাগন নিরুৎসাহিত হচ্ছে এবং ব্যাংক-গ্রাহক এর মধ্যে একটি অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা কোন ভাবেই কাম্য ছিল না। এখানে উল্লেখ্য যে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে বি,এন,পি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা গ্রহনের পর প্রথম সিদ্ধান্তটি ছিল ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋনের সুদ মওকুফ এবং সেই সময়কার দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অর্থনীতির পাতার সম্পাদক জাহিদুজ্জামান ফারুখ লিখেছিলেন গনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রথম সিদ্ধান্তটি ছিল ভুল সিদ্দান্ত যাকে আক্ষায়িত করা হয়েছিল রাজনীতিতে ঋনের অনুপ্রবেশ যা বাংলাদেশে নূতন কোন ঘটনা নয়।

এই সিদ্ধান্তের কুফলটি এত ভয়ংকর ছিল যে যারা এই মওকুফের আওতায় আসেনি যেমন সমবায় খাত কে,এস,এস/ টি,সি,সি,এ) তারা আন্দোলন শুরু  করায় সোনালী ব্যাংকের পল্লী ঋন  খাতের ৯শত ৫০ কোটি টাকা আটকে গেল আর রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে ৬টি বানিজ্যিক ব্যাংকের কৃষি/পল্লীঋন এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বি,কে,বি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর কৃষি ঋন মিলে ২২ শত কোটি টাকা এই মওকুফের আওতায় এসেছিল যার মধ্যে বি,কে,বি এর ছিল ১২ শত কোটি টাকা। এই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের  অবস্থানটা ছিল নিরব দর্শকের মতই। সময়ের আবর্তে আগের অর্থমন্ত্রীরা  সংসদে ঋন নিয়ে কথা বললেও বিগত ২০০৯ সালের পর থেকে টানা দশটি বছর বাজেটের খেলাপি ঋন নিয়ে কেহ কথা বলেননি যদিও বর্তমান অর্থমন্ত্রী ২০১৯ সালে ক্ষমতা গ্রহনের পর পরই বলেছিলেন কাল থেকে কোন প্রকার খেলাপি ঋন আর থাকবে না। অথচ বিগত নয়টি বছরে এই খেলাপি ঋন ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। তারপর ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী  খেলাপি ঋনের প্রসঙ্গটি নিয়ে আসেন এবং ভাল ঋন সংস্কৃতি গড়ার লক্ষ্যে তাদের  জন্য অনেক সুযোগ সুবিধার কথা বলেছিলেন। অর্থমন্ত্রীরা ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথাও বলেছিলেন যার বাস্তবায়ন এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। ক্রমাগতভাবে খেলাপি ঋন বৃদ্ধির কারনে গত ২রা জুন মহান জাতীয় সংসদে জনৈক সংসদ সদস্য কর্তৃক প্রশ্ন উত্থাপিত হলে  অর্থমন্ত্রী তার উত্তরে বলেন ঋন খেলাপি হওয়ার কারন পাঁচটি, যথা: এক: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ম বহির্ভুত অনেক কিছু হয়েছে; দুই: ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে ঋন গ্রহিতা নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছে; তিন: ঋনের বিপরীতে রাখা পর্যাপ্ত জামানত, একি সম্পদ একাধিক ব্যাংকে জামানত রাখা ও জামানত বাজার মূল্যের চেয়ে বেশী দেখানো; চার: গ্রাহকের সকল দলিল সংগ্রহ ও সঠিক যাচাই না করা; পাঁচ: ঋন গ্রহিতার তহবিল ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা; প্রয়োজন ও সামর্থের বিচার না করে অতিরিক্ত ঋন প্রদান; সময় সময় ঋন সীমা বাড়ানো, ঋন তফসিল করন ও পুন:গঠন সুবিধা দেয়া ইত্যাদি। অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন ঋন খেলাপি হলে আদায় ও বিতরন ক্ষতিগ্রস্থ হয় যা সামষ্টিক অর্থনীতির বিবেচনায় জাতীয় আয় (জিডিপি)তে এর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ঋন দেয়ার সংস্কৃতি যে ঋন খেলাপির অন্যতম কারন তা মন্ত্রী মহোদয় উল্লেখ করলে তার উল্লেখিত কারনগুলো আরও সম্পূর্ণ হতো।

গত মার্চ পর্যন্ত তৈরি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায় যে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিশেষ ছাড় দিয়েও খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত- এই তিন মাসে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের অঙ্ক বেড়েছে ৬ হাজার ৮০২ কোটি টাকা যা ওই সময় পর্যন্ত খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৮.০৭ শতাংশ।  প্রতিবেদন থেকে আরও পাওয়া যায়, গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের বিতরণ করা মোট ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।  করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় ঋণগ্রহীতাদের বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এগুলো পরিশোধে ব্যর্থ হলেও কোনো ঋণকে খেলাপি করা হয়নি। বর্তমানেও অনেক ঋণের বিপরীতে কিস্তি পরিশোধে ছাড় বহাল রয়েছে। কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে খেলাপি করার ক্ষেত্রেও অনেক ঋণে ছাড় বহাল রয়েছে। তবে কিছু খাতে গত ১ জানুয়ারি থেকে কিস্তি পরিশোধ না করলে খেলাপি করা হচ্ছে। এ কারণে গত তিন মাসেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ১৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা যা জুন শেষে ছিল ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। আর গত নয় মাসে বেড়েছে ১২ হাজার ৪১৬ কোটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে দেশের মোট ৬০টি ব্যাংকের ঋণ পরিসংখ্যান নিয়ে প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংকগুলোর সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। আরও খবর এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল-এর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সেপ্টেম্বর শেষে দুই লাখ ১৯ হাজার ২৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা যার মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৪৪ হাজার ১৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৯৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫০ হাজার ৭৪৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ খেলাপির হার পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ২০.০৭ শতাংশে, বেসরকারি খাতের ব্যাংকের ৫.৪৭ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ৪.১২ শতাংশ ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ১১.৪৪ শতাংশ। এদিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৩৪১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, খেলাপির পরিমাণ ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ও খেলাপির হার ১১.৪৪ শতাংশ। এছাড়া বিদেশী ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ২৬১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা ও খেলাপির হার ৪.১২ শতাংশ।

গত দেড় বছরে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমদানি ও রপ্তানিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে করোনা ভাইরাসের কারণে চলমান বিরূপ প্রভাবের ফলে অনেক ঋণগ্রহীতাই সময়মতো ঋণের অর্থ পরিশোধে সক্ষম হবেন না এই ধারণায় ব্যবসায়ীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ধীরে ধীরে সেসব সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংক উঠিয়ে নিচ্ছে। আর এতে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ।

ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা চলছে প্রায় তিন বছর ধরে। নভেল করোনাভাইরাসে সৃষ্ট আর্থিক দুর্যোগ ঋণ প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা আরো বাড়িয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল আমানতের প্রবৃদ্ধি। মহামারীর মধ্যেও আমানতের উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে ব্যাংক খাতে। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঋণের পাশাপাশি আমানতের প্রবৃদ্ধিতেও মন্থরতা নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০ সাল শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের যে পরিমাণ ছিল, জানুয়ারিতে তা না বেড়ে উল্টো কমেছে। গত ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে আমানতের (মেয়াদি ও তলবি) পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ৯০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে আমানতের পরিমাণ ১২ লাখ ৮৬ হাজার ২০১ কোটি টাকায় নেমেছে। এ হিসাবে ব্যাংক খাতে আমানত কমেছে ৪ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে আমানত কমার হার শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ।

আমানতের মতো ব্যাংক খাতের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণও এ সময়ে কমেছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট বিনিয়োগ ছিল ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি শেষে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ ১৪ লাখ ৪৮ হাজার ২১৯ কোটি টাকায় নেমেছে। এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমেছে দশমিক ০২ শতাংশ। ব্যাংকের বিনিয়োগের মধ্যে ঋণ বা অগ্রিম, বিভিন্ন ধরনের বিল ও বিনিয়োগ ধরা হয়েছে। তবে অন্যান্য বিনিয়োগের চেয়ে জানুয়ারিতে মূলত ব্যাংকের ঋণ বেশি কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত তারল্যের বোঝা কমাতে আমানতের সুদহার সর্বনিম্নে নামিয়ে এনেছে বেশির ভাগ ব্যাংক। এক বছর আগে ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রেখে গ্রাহকরা ৮ শতাংশের বেশি সুদ পেলেও এখন তা ৩-৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্র, পুঁজিবাজার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই), আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। উপার্জনের অবলম্বন হারিয়ে অনেকে ব্যাংকে রাখা সঞ্চয় ভেঙে জীবন যাপনে ব্যয় করছে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন খেলাপি ঋন আদায়ে যে সকল বিষয় গুলো সুবিবেচনায় আনার প্রয়োজন রয়েছে তা হলো:

প্রথমতঃ ঋন বিতরন ও আদায়ে সমতা বিধান করা। ঋন বিতরন যদি স্বচ্ছতার সাথে উৎপাদনশীল খাতে হয় তাহলে আদায়ের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে ব্যাংকার কাষ্টমারের নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যারা অসাধুতাকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত করে তারা উভয়ই সমান দোষী। এ ব্যাপারে প্রথমে ব্যাংকারদের সতর্ক হতে হবে এবং পরিবর্তিতে গ্রহকদেরও এই পথ অনুসরন করতে হবে; 

দ্বিতীয়ত: দেশের ৩৯ টি বেসরকারি ও ৪ টি সরকারি বানিজ্যিক ব্যাংক সাধারনত আর্থিক বাজারের অংশ হিসাবে স্বল্প মেয়াদে গৃহীতাদের ঋনের চাহিদা পূরন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এই ব্যাংকগুলো দীর্ঘ মেয়াদে চার পাঁচ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋন দিয়েছে যার বেশির ভাগ খেলাপী ঋনে পরিনত হয়েছে। এখন বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিয়মনীতি ভঙ্গ করে ঋন দেয়া এবং ঋন খেলাপী হওয়ার মত একটি যাতনাকে বয়ে বেড়াচ্ছে যার ফলাফল তারল্য সংকট, মুনাফার ঘাটতি ও ইমেজ সংকট। অথচ দীর্ঘ মেয়াদে বৃহদাকার ঋন প্রদানের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক যেমন- বাংলাদেশ ডেভোলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), বেসিক ব্যাংক, রাকাব ইত্যাদি রয়েছে যারা সরকারি ব্যাংক হিসাবে সরকারের সাহায্য পুষ্ট হয়ে বেশি সময়ের অর্থায়নে অংশ নিতে পারে। এই অসংগতি গুলো দুর করা প্রয়োজন।

তৃতীয়তঃ ব্যাংকিং খাতের বৃহদাকার ঋনগুলোর স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মুল্যায়ন না হওয়ায় অনেক অনাগ্রিধার কিংবা অলাভজনক খাতেও ঋন বিনিয়োগ হচেছ যা পরিবর্তিতে খেলাপী ঋনে পরিনত হয়। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক ঋন মঞ্জুর করা হয় যার বেশির ভাগ অনুৎপাদনশীল খাতে চলে যায় যার পরিণতি হয় খেলাপী ঋন। এখন গনতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে বিচরন করলেও অন্তত ব্যাংকিং এর মত সেবাধর্ম্মী আর্থিক খাতটিকে রাজনীতি মুক্ত রাখা যায় না কেন? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের অভিবাবক হিসাবে তার সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারে না কেন?

চতুর্থতঃ ঋন মওকুফ, ঋনের পুনঃ তফসীলিকরন, ঋনের অবোলোপন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখন খুবি ক্ষতিকর ও অলাভজনক। এখন ব্যাংকও ঢালাও ভাবে সবাইকে সুযোগ দিতেও পারে না। কিংবা ঢালাওভাবে বিবেচনায়ও আনতে পারে না। কিন্তু জায়গাটিতে ব্যাংকার কিংবা ব্যাংকিং সুশাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয় যা কোন ভাবেই প্রতিষ্ঠিত করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা, প্রশাসনিক সমর্থন ইত্যাদি তফসিলি বানিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য খুবি জুরুরি। সর্বশেষ বলা যায় সরকার যদি সচেষ্ট হয় তবে সামাজিকভাবে এই সকল খেলাপি ঋনের মোকাবেলা করাও সম্ভব আবার প্রশাসনিক ভাবেও সম্ভব। এখন কোনটি ভাল হবে তা কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবে তবে সমস্যার অবশ্যি শান্তিপুর্ণ সমাধান চাই ব্যাংকিং শিল্পের স্বার্থে।

লেখক: গবেষক ও অর্থনীতিবিদ


Comment As:

Comment (0)