এলডিসি

এলডিসি থেকে বাংলাদেশকে উত্তরণের সুপারিশ জাতিসংঘে অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। একমাত্র দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ৩টি মানদণ্ডই পূরণ করায় বাংলাদেশকে এ অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে এক টুইটা বার্তায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় এই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

এছাড়া বুধবার মধ্যরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যে দেশ জাতিসংঘ নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণের মাধ্যমে এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের এ অর্জন বিশ্বদরবারে এ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং আরও অধিকতর উন্নয়নের যাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।

প্রস্তুতিকালে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিল, সেগুলো অব্যাহত থাকবে। তা ছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে। যদিও এটি ২০২৪ সালে লাভ করার কথা ছিল। কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ দুই বছর সময় চেয়ে নিয়েছিল। একমাত্র দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যে ৩টি মানদণ্ডই বাংলাদেশ পূরণ করেছে সেগুলো হলো- মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা। মূলত এ তিনটি সূচকের ভিত্তিতেই জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে থাকে।

এমন অর্জনকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা এক টুইটে বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ঐতিহাসিন সুপারিশ গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর) ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে দারুণ উপলক্ষ আর কি হতে পারে! জাতির বহুদিনের আশা-আকাঙ্খা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ অবশেষে পূর্ণতা পেলো। জয় বাংলা।

সাধারণত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশ তুলনামূলক দুর্বল, সেসব দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭১ সালে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা করা হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল ও লাওসের ক্ষেত্রেও একই সুপারিশ করা হয়েছে। এই তিন দেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর প্রস্তুতির সময় পাবে। সাধারণত প্রস্তুতির জন্য তিন বছর সময় দেওয়া হয়। করোনার কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই বাড়তি সময় দেওয়া হলো।

 

চলতি বছরে ২২-২৬ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠকে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। এর নয় মাসের মাথায় সেটি জাতিসংঘে গৃহীত হলো। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকবে না। উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হবে।

জাতিসংঘের পর্যালোচনা অনুযায়ী ২০১৯ সালে মাথাপিছু আয়ের মানদণ্ড নির্ধারিত ছিল এক হাজার ২২২ মার্কিন ডলার। কিন্তু সে সময় বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৮২৭ ডলার। আর বর্তমানে (নভেম্বর-২০২১) সেটা দুই হাজার ৫৫৪ ডলার। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকের মানদণ্ড নির্ধারিত ছিল ৩২ কিংবা তার কম। সে সময় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৭ এ। মানবসম্পদ সূচকে জাতিসংঘের নির্ধারিত মানদণ্ড ছিল সর্বনিম্ন ৬৬। আর তখন বাংলাদেশের ছিল ৭৫.৪।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ৪৭টি স্বল্পোন্নত দেশ আছে। এ পর্যন্ত মালদ্বীপ, বতসোয়ানা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, সামোয়া ও কেইপ ভার্দে এলডিসি থেকে বের হতে পেরেছে।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//

 

 

 

 


Comment As:

Comment (0)